আমলকির উপকারীতা
আমলকির উপকারীতা "আমলকি" - ডায়বেটিস, ক্যান্সার, হার্ট, আলসার ছাড়াও হাজারো গুণের কাজী আমলকি এমন একটি ফল যার মধ্যে রয়েছে অনেক ভেষজ গুণ। যার অন্যনাম, আমলা, ইংরেজিতে বলে Indian Gooseberry।
ফল থেকে শুরু করে পাতাও ওষুধরূপে ব্যবহার করা হয়।
প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ ভরপুর আমলকি।
পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমলকিতে পেয়ারা ও কাগজি
লেবুর চেয়ে যথাক্রমে তিন গুণ ও দশ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে।
আমলকিতে কমলা লেবুর
চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার
চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে।
এই আমলকি বিভিন্ন অসুখ সারানো ছাড়াও রোগ
প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তুলতে দারুণ সাহায্য করে। আমলকির গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক
ওষুধেও এখন আমলকির নির্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। কি উপকার করে, এটাতে যাওয়ার আগে আসুন
জেনে নিই কি আছে এটাতে।
প্রতি ১০০ গ্রাম আমলকিতে যা আছে:
এনার্জি – ৪৪ কিলোক্যালোরি
কার্বহাইড্রেড – ১০ গ্রাম ডাইয়েট্ট্ররী ফাইবার – ৪.৩ গ্রাম প্রোটিন -১ গ্রাম
ফোলেটস্ – ৪.৩ এমসিজি নিয়াসিন – ০.৩ মিগ্রাম প্যানটোথেনিক এসিড – ০.২৮৬ মিগ্রাম
পাইরোডক্সিন – ০.০৮ মিগ্রাম রিভোপ্লাবিন – ০.০৩ মিগ্রাম থাইয়ামিন – ০.৪ মিগ্রাম
ভিটামিন এ – ২৯০ আইইউ টোটাল ফ্যাট – ০.৫৮ গ্রাম ক্যালসিয়াম – ২৫ মিগ্রাম আয়রন –
০.৩১ মিগ্রাম ভিটামিন সি – ২৭.৭ মিগ্রাম সোডিয়াম – ১ মিগ্রাম পটাশিয়াম – ১৯৮
মিগ্রাম কপার – ০.০৭ মিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম – ১০ মিগ্রাম ম্যাঙ্গানিজ – ০.১৪৪
মিগ্রাম ফসফরাস – ২৭ মিগ্রাম জিংক – ০.১২ মিগ্রাম ব্লড সুগার ডায়াবেটিস: আমলকি
ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন
মাত্র চা চামচের ৩/৪ ভাগ আমলকি চূর্ণ সেবন করলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস স্বাভাবিকে চলে
আসে, যা ডায়াবেটিস এর ঔষধ থেকেও বেশি কার্যকরী। যেভাবে তৈরী করতে হবে: পরিমানমত
পানি ভাল করে সিদ্ধ করে রুম তাপমাত্রায় ঠান্ডা করতে হবে। ইত্যবসরে ২/৩টি আমলকি
সাধারন পানি দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর আমলকি কেটে ছোট ছোট টুকরো করে পানিতে
মিশাতে হবে, সাথে ২ চা চামচ হলুদের গুঁড়াও মিশাতে হবে। মিশ্রণটি একটি টাইট
কন্টেনারে ভরে ১০ দিন রেখে দিতে হবে। মাঝে মাঝে কন্টেনারটি একটু নাড়িয়ে রাখতে হবে।
১০ দিন পর মিশ্রণ থেকে ২ চা চামচ সকালে খালি পেটে খেয়ে নিতে হবে। এভাবে ১০/১২ দিন
পর দেখুন আপনার সুগার লেভেল ম্যাজিক রেজাল্ট। কোলেস্টেরোল এন্ড হার্ট: আমলকি
ডায়াবেটিস রোগীর কোলেস্টেরল লেভেলও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে। মাত্র ২১ দিন
আমলকি চূর্ণ সেবনে খারাপ কোলেস্টেরোল বিপদজনক মাত্রা থেকে অর্ধেকে নেমে আসে।
পাশাপাশি ভাল কোলেস্টেরোল বেড়ে প্রায় ডাবল হয়ে যায়। আর ট্রাইগ্লিসারাইডও অর্ধেকের
বেশি নেমে আসে। ক্যান্সার: ক্যান্সার প্রতিরোধে আমলকি খুবই কার্যকর।
আমলকিতে আছে
উচ্চ মাত্রার এন্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে সুপারঅক্সাইড ডিসমিউটাস (এসওডি), যা ফ্রি
রেডিকেল গঠনের বিরুদ্ধে কাজ করে। ইউরোপীয়ান জার্নাল অব ক্যান্সার প্রিভেনশান এর
২০১১ সংখ্যাতে এটা প্রকাশিত হয়। আমলা ক্যান্সার গবেষণা কেন্দ্র, কেরালার এক গবেষণায়
দেখা গেছে আমলকি ক্যান্সার কোষকে অত্যন্ত সফলতার সাথে ধ্বংশ করে দেয়। আমলকি মুলত ৬
ধরণের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে। ফুসফুসের ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, ওভারিয়ান
ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার, সার্ভিক্যাল ক্যান্সার ও লিভার ক্যান্সার। লিভার:
গবেষণায় দেখা গেছে, আমলকিতে একধরনের বিশেষ উপাদান আছে, যা লিভারকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি
(যা বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল ও অ্যালকোহল থেকে সৃষ্টি) থেকে রক্ষা করে। এটা ফ্যাটি
লিভারের জন্য একটি শক্তিশালী রিমেডি। একটুকরো আমল সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি
পেটে খেলে লিভার সুস্থ থাকে। হজম সমস্যা, গ্র্রাস্ট্রিক আলসার: আমলকি ফাইবার
সম্বৃদ্ধ ফল। এটার ফাইবার, ফলিপেনল ও পানি মিলে এন্টিইনপ্লেমেটরি উপদান তৈরী হয়, যা
পরিপাকতন্ত্রকে শক্তিশালি করে হজমে সাহায্য করে ও স্টমাকে আসিডের ব্যালেন্স বজার
রাখে। এটা খাদ্য থেকে পুষ্টি শুষে নিয়ে শরীরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। খাবারের সঙ্গে
আমলকির আচার খেলে হজমে সাহায্য করবে। আমলকির টক ও তিক্ত স্বাদ হজমের এনজাইমকে
সক্রিয় করে তোলে। আমলকি গ্রাস্ট্রিক থেকে পরিত্রাণ পেতে সাহায্য করে। এসিডিটি দূর
করা জন্য আমলকি পাউডার দুধের সাথে মিশিয়ে দিনে দুই বার খেতে হবে। অথবা সকালে খালি
পেটে এ চা চামচ আমলকির রস খেলে গ্যাস্টিকের সমস্যা দূর হয়। ভিটামিন সি ঘাটতি জনিত
রোগ: শরীরে ভিটামিন সি এর ঘাটতি মেটাতে আমলকির জুড়ি নেই। ভিটামিন সি এর অভাবে যেসব
রোগ হয়, যেমন: স্কার্ভি, মেয়েদের লিউকরিয়া, অর্শ প্রভৃতি ক্ষেত্রে আমলকি খেলে
উপকার পাওয়া যায়। প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি: আমলকি প্রজনন টিস্যুসহ ৭ ধরণের টিস্যু
উন্নত করতে সাহায্য করে। ইহা শুক্রানু ও ডিম্বানু বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে, পুরুষের
স্পার্ম-এর কোয়ালিটি ইম্প্রুভ করে। চুলের টনিক: আমলকি চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে
এবং চুলের যত্ন নেয়ার জন্য এটি একটি অপরিহার্য উপাদান। আমলকি খেলে শুধু চুলের গোড়াই
শক্ত হয় না, চুল দ্রুত বড় হতেও তা সাহায্য করে। এছাড়া খুশকিমুক্ত ও কম বয়সে চুল
পাকা রোধে আমলকি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কাঁচা আমলকি বেটে রস প্রতিদিন চুলে লাগিয়ে
দু-তিন ঘন্টা রেখে দিতে হবে। এভাবে একমাস মাখলে চুলের গোড়া শক্ত, চুল উঠা এবং
তাড়াতড়ি চুল পাকা বন্ধ হবে। ঘুমের সমস্যায়: যারা ঘুমের সমস্যায় ভোগে তার কাঁচা বা
শুকনো আমলকি বেটে একটু মাখন মিশিয়ে মাথায় লাগালে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম আসে।
কোষ্টকাঠিন্য ও পাইলস: অন্ত্রের রোগ নিরাময় ও ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এটি
সহায়ক। ইহা পাইলস রোগ থেকে মুক্তি দেয়। ক্ষুদামন্দা: খাওয়ার আগে মাখন ও মধুর সঙ্গে
আমলকির গুঁড়া মিশিয়ে খেলে ক্ষুধামন্দা দূর হয়। চর্মরোগ: প্রতিদিন সকালে মধুর সঙ্গে
আমলকির রস মিশিয়ে খেলে চর্মরোগ নিরাময় হয়, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় ও মুখের
ত্বকে কোনো দাগ পড়ে না। চোখের রোগ: চোখের জ্যোতি বৃদ্ধিতে আমলকি খুবই উপকারি।
এছাড়া, চোখ লাল হওয়া, চুলকানো ও চোখ দিয়ে পানি পড়া রোধেও আমলকি বিশেষ ভূমিকা পালন
করে। এছাড়া, ছানি প্রতিরোধ করতেও ইহা সাহায্য করে। হৃদকম্প রোগ: আমলকি হৃদপিন্ডের
পেশি শক্তিশালী করে ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। হৃদকম্পের
রোগীরা আমলকি খেলে বুক ধরফরানি কমবে। মুখের দুর্গন্ধ: প্রতিদিন আমলকির রস খেলে
নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ রোধে তা সহায়তা করে ও দাঁতকে শক্তিশালী করে। সর্দি-কাশি:
দীর্ঘমেয়াদী কাশি-সর্দির জন্য আমলকির নির্যাস খুবই উপকারী। মস্তিস্কের জন্য: আমলকি
স্নায়ুতন্ত্র্রের রক্ত প্রভাব বৃদ্ধি করে। এটা স্মৃতিভ্রম ও আলজেইমার্স রোগ
প্রতিরোধ করে। ইহা মস্তিস্কে রক্ত প্রভাব বৃদ্ধি করে স্মৃতি শুক্ত বৃদ্ধি করে। ওজন
কমাতে: আমলকি শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে। এক গ্লাস দুধ বা পানির
মধ্যে আমলকি গুঁড়া ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু’বার খাওয়া যায়। পিত্ত রোগ: পিত্ত
সংক্রান্ত যেকোনো রোগে সামান্য মধু মিশিয়ে আমলকি খেলে উপকার পাওয়া। নাক দিয়ে রক্ত
পড়া: নাক দিয়ে রক্ত পড়লে আমলকির রস ২/৩ ফোঁটা নাকের ছিদ্রপথে দিলে আরোগ্য লাভ হয়।
কিডনী স্টোন: মূলা আমরা সবাই জানি সব্জি হিসেবে। এই মূলার সাথে আমলকি পাউডার মিশিয়ে
খেলে কিডনীর পাথর দ্রুবিভুত হয়ে যায়। রক্ত পরিষ্কার: আমলকী পাউডারের সাথে মধু
মিশিয়ে খেলে রক্ত পরিষ্কার হয়ে যায়।





0 Comments:
Post a Comment
Subscribe to Post Comments [Atom]
<< Home